Feeds:
পোস্ট
মন্তব্য

(গত ৭ এপ্রিল সামহোয়ারের ব্লগার আশীফ এন্তাজ রবির বিদ্যুৎ বিভ্রাট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লেখা চিঠির সম্পর্কে এই পোস্টটি লেখা হয়েছিল। পোস্টটি পাওয়া যাবে http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29130325)

ব্লগের প্রথম পাতায় এখন দুইটি স্টিকি পোস্ট শোভা পাচ্ছে যার মাঝে আশীফ এন্তাজ রবির পোস্টটিই বেশি নজর কাঁড়ে। পোস্টটি প্রথমে ভাল করে পড়া হয়ে উঠেনি, তাই আবারো পড়লাম। পড়া হল সংশ্লিষ্ট কিছু মন্তব্যও। বিদ্যুৎবিহীন অসুস্থ এই শহরে ঠান্ডা মাথায় সুন্দর একটি চিঠি লিখবার জন্য আশিফ এন্তাজ রবি অবশ্যই অভিনন্দনের দাবিদার। আর কিছু না হলেও অন্তত ব্লগকেন্দ্রেকি একটি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক অসহ্য পরিস্থিতিতে জনগনকে যেমন শান্ত মনে হচ্ছে তাতে বরং অবাকই হয়েছি। জনগন শান্ত থাকা ভাল তবে নিরীহ হয়ে গেলে সরকারগুলো যাচ্ছেতাই করবার সাহস পায়। যাই হোক, পোস্টে তার এবং কমেন্টে বিভিন্নজনের দেওয়া কিছু প্রস্তাবকে কেন্দ্র করেই আমার এই পোস্ট।

পোস্টে জনাব রবি কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ সম্পর্কিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে। এগুলো প্রধানত মার্কেট বন্ধ করা, অনুষ্টানাদি বন্ধ করা, স্কুল কলেজ বন্ধ করা, অর্থাৎ “বন্ধ” কেন্দ্রীক। তবে হ্যা, তিনি হাসপাতাল বন্ধের উপদেশ দেননি। আমি মনে করি “বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ কর” এটা কোন সমাধান হতে পারে না। সরকার কত কিছুই না করল। প্রধানমন্ত্রী এমনিতেই অনেক কিছু বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে বসে আছেন। মার্কেট আটটার পর বন্ধ করা হল, এখন বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক সিডিউল করল মার্কেট বন্ধ করার, অফিস আদালতে এসি ব্যবহার করতে মানা করছে, এক ঘন্টা-দুই ঘন্টা বিরতির লোডশেডিং লোডশেডিং খেলা করছে আরো কত কি! এর ফলাফল কি? বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কোন উন্নতির লেশমাত্র কি আমরা দেখতে পাচ্ছি? উত্তর একটাই, না।

ঘটনাটাকে আমরা ভিন্ন উদাহরণে বিবেচনা করতে পারি। ধরি, একজন ব্যক্তি যা আয় করেন সেটা দিয়ে সংসার চালাতে পারেন না। এই পরিস্থিতিতে তিনি কি কি করতে পারেন? যতই তিনি পয়সা বাঁচাবার উপায় খোঁজা হোক না কেন, পরিবার চালানো তার জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর হতে থাকবে। আমরা কতটুকুই বা সাশ্রয় করতে পারি। বড়জোর রিক্সা ফেলে বাস ধরতে পারি,নিজের জামা কাপড়ের খরচ কমাতে পারি, খাওয়াদাওয়া থেকে কিছু বাঁচাবার চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু এতে কতক্ষণ? আমরা চাইলেও বাসা ভাড়া কমাতে পারি না। চালের খরচ, শিশুদের লেখা পড়ার খরচ, বাবা মায়ের ঔষুধের খরচ এগুলো কি কমানো যায়? যে সব ক্ষেত্রে সাশ্রয় সম্ভব বরং সেই সব নিয়ে চিন্তা করতে করতে অস্থিরতা বাড়ে। এক্ষেত্রে সমাধান হল, বিকল্প আয়ের উৎস খুজে বের করা। কেউ শেয়ারে পয়সা খাটায়্ কেউ বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবসা করে, কেউ অন্যত্র টাকা খাটায়। এদেশ দূর্ণীতিগ্রস্থ হতে পারে কিন্তু এদেশের অধিকাংশ চাকুরিজীবি এভাবেই তাদের সংসারের অতিরিক্ত খরচের ব্যবস্থা করেন।সবাই তো আর চোর না।

ঠিক একই ভাবে দেশেও বিকল্প বিদ্যুতের উৎসের সন্ধান করতে হবে। যে সূর্য তার প্রখরতায় আমাদের নিংড়ে জীবন অতিষ্ট করে তুলছে, সেই শক্তিকে ব্যবহারের কোন তাগিদ আমাদের নেই। অনেকদিন ধরে বৃষ্টি না হলেও বাতাস কিন্তু ঠিকই আছে। কোন উইন্ড মিল স্থাপনের উদ্যোগ কোথাও দেখি না! এইসব শক্তি ব্যবহার করে আমরা হয়ত হাজার হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করতে পারব না। কিন্তু জাতীয় গ্রীডের ঘাটতি নিশ্চয়ই পুরণ করতে পারব। ঢাকা শহরের একটি বাড়ির ছাঁদে একটি করে সোলার এনার্জি সেল (ছাদের আকারের উপর নির্ভর করে), ছাঁদে কয়েকটি উইন্ড মিল স্থাপন করতে কি কোটি কোটি টাকা লাগে? বিদ্যুৎ চলে যাবার পরে আমাদের এলাকার অনেক বাড়িতেই লাইট্ ফ্যান চলতে দেখা যায় আইপিএসের বদৌলতে। আইপিএসএর জন্য অনেকেরই বিশ ত্রিশ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এক লোক শুনলাম প্রায় কোটি টাকা দিয়ে ফ্লাট কিনেছে। সেখানে জেনারেটর খরচ নাকি মাসে আট নয় হাজার টাকা গুনতে হয়। সেই হিসেবে দশতালা দুই ইউনিটের একটি এপার্টমেন্টে দেড় লাখটাকা মাসিক খরচ জেনারেটরের তেল বাবদ। এই খরচের কিছু অংশ যদি তারা তাদের বিল্ডিংএর ছাদে সোলার এনার্জি সেল, উইন্ড মিল স্থাপন করতে ব্যয় করে তবে নিজেদের খরচ যেমন বাচাবে তেমনি জাতীয় গ্রিডের উপর চাপও কমাবে। এমন এপার্টমেন্ট শহরগুলোতে ভুরি ভুরি আছে। আমরা উলটো আইপিএস সরকারের লোডশেডিং এর মূল উদ্দেশ্য কেউ বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছি। কারন বিদ্যুৎ বন্টনের উদ্দেশ্যেই লোডশেডিং করা হয়। আমরা যদি বিদ্যুৎ আইপিএসএ সঞ্চয় করে রাখি তাহলে লোডুশেডিংএর লাভ তো কিছু হচ্ছেই না বরং উলটো আইপিএস নিজে কিছু অতিরিক্ত শক্তি নষ্ট করছে। মেশিন নিজের অপারেশনে নিশ্চয়ই কিছু শক্তি ব্যয় করে। শহরগুলোর সম্মিলিত আইপিএসের এই খরচ হিসেব করলে তা নিশ্চয়ই কম হবে না।

বড় বড় শপিং মলের প্রতি কেন জানি না আজকাল সবার একটা ইর্ষা দেখা যায়। কিন্তু যানজটের এই শহরে প্রচন্ড গরমে শপিংমলই কিন্তু অধিকাংশ লোকের বিনোদনের স্থান হয়ে দাড়াচ্ছে। শপিং মলে, মার্কেটে কি লোকে শুধু আজাইরা পয়সা উড়াতেই যায়? মার্কেট, শপিং মল কি শুধু বড়লোকের পয়সা উড়াবার জায়গা? বসুন্ধরা সিটির একটি দোকানের মালিক হয়ত কোটিপতি হতে পারে কিন্তু তার দোকানে যেই দশটা লোক কাজ তারা কি লক্ষপতি? যদি ধরেই নেই তিন চারদিন মার্কেট বন্ধ রেখে বিদ্যুৎ জমা করে হাসপাতালের রোগিদের দেওয়া হবে। প্রশ্ন হল সেই দোকান কর্মচারিরা তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য চিকিৎসার খরচ জোগাবে কিভাবে? মালিক কি দোকান বন্ধ রেখে এমনি এমনি তাদের টাকা দেবে? যদি না দেয় তবে কি তাকে আমরা দোষ দিতে পারি? সে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবির মত তার মাস শেষে বেতন আসে না। তাকে নিজের আয়ের ব্যবস্থা নিজেই করতে হয় সাথে নিজের কর্মচারিদেরও। এই বাস্তবতা অস্বীকার করবার কোন উপায় আছে কি? আজকালের অফিসগুলো সেন্ট্রাল এসি থাকে। এই এসি বন্ধ থাকলে আর বাতাস আসা যাওয়ার উপায় থাকে না। বিল্ডিংএর বাইরের দিকের রুমগুলোতে হয়ত বা জানালা খোলার ব্যবস্থা সম্ভব। নইলে মাঝের বদ্ধ ঘরগুলোতে শীতগ্রীষ্ম কোন কালেই এসি ছাড়া টেকা সম্ভব না। এটা কি ভুল?

স্কুল কলেজ বন্ধ করাও একটা প্রস্তাব। প্রশ্ন হল ঢাকা শহরের স্কুল গুলো কি অনেক অনেক বিদ্যুৎ খরচ করে। একটা স্কুলে বড় জোড় প্রতি ক্লাস রুমে কয়েকটি লাইট, ফ্যান চলে। এর চাইতে কম পরিসরে একটি দোকানে আরো বেশি লাইট ফ্যান চলে। তাছাড়া দিনের বেলায় স্কুলে লাইটের ব্যবহার খুব একটা হয় না। শহরের সামগ্রিক খরচের সাপেক্ষে স্কুল কলেজের বিদ্যুৎ খরচ খুব একটা বেশি হয়ত হবে না। তিনশ পয়শট্টি দিনের বছরে একটা স্কুল সাপ্তাহিক ছুটি, দুই ঈদ, পুঁজা, জন্মদিন-মৃত্যুদিন, নানা দিবস, এসএসসি পরীক্ষার সিট পড়া, রাজনৈতিক-প্রাকৃতিক কারনে একটা বিশাল সময় বন্ধ থাকে। তার উপর যদি উড়ে এসে জুড়ে বসা বিদ্যুৎ সমস্যা জন্য ছুটি যোগ হয় তাহলে তো লেখা পড়া লাটে উঠবে।

সহজ কথা হচ্ছে আমাদের কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা আছে। সরকার যদি এই মূহুর্তেও সিদ্ধান্ত নেয় তাহলেও বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন হতে হতে অবশিষ্ট পৌনে চার বছর অনায়াসে কেটে যাবে বিদ্যুৎ পেতে পেতে। সাময়িক যে কোন উদ্যোগই আমরা ব্যর্থ হতে দেখছি। আমার মনে হয় সরকারের একটাই উপায় তা হল শহর গ্রামের মানুষকে ব্যাপক ভাবে সৌর বিদ্যুৎ সেল স্থাপনে আগ্রহী করে তোলা, উইন্ড মিল মানুষের কাছে জনপ্রিয় করা। এই ক্ষেত্রে আমাদের সব চাইতে বড় সমস্যাটিই প্রধান শক্তি হয়ে দাড়াতে পারে। সেটা হল আমাদের জনসংখ্যা। এই দেশে নাকি তেত্রিশ হাজার কোটিপতি আছে। তাদেরকে দিয়ে যদি সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি, বায়োগ্যাস প্রভৃতি ব্যবহার করে জন প্রতি ০.০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করানো যায় তবে সরকার দ্রুতই একহাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত পেতে পারে। এরজন্য সরকারকে মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে হবে।

সরকার তার ঘুনে ধরা মান্ধাতার আমলের আমলাদেরকে দিয়ে এই ব্যাপারে কিছুই করতে পারবে না। সরকারের শিক্ষা নেওয়া দরকার কর্পোরেট কম্পানিগুলো থেকে। আমরা এদেরকে যতই গালি দেই না কেন, তারা সিদ্ধান্ত নিতে এবং তা সাথে সাথে বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাখে। যা আমাদের সরকার খাতাকলমে সব ক্ষমতা থাকা সত্তেও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে পারে না। গ্রামীন ফোন যখন তার লোগো পরিবর্তন করে তখন আমি রীতিমত তাদের কর্মদক্ষতায় অভিভূত হয়েছিলাম। ঢাকার বাইরে সেই সময় বিভিন্ন জায়গায়তে যাওয়া হয়েছিল। অবাক হয়েছিলাম, তাদের পুরানো লোগো কোথাও আর দেখি নি। একই ব্যাপারই দেখা যাচ্ছে একটেল নতুন নাম রবি নেবার পর থেকে। আন্তর্জাতিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদের এইটুকু শিখেছি বিশাল রকম কিছু করার জন্য দরকার সঠিক ভাবে পরিচালনা, শক্ত নেতৃত্ব। সঠিক ভাবে অর্গানাইজ করা হলে এবং নেতৃত্ব শক্ত থাকলে নিতান্ত গাধাও নিজের অজান্তে অনেক বড় কিছুর অংশ হয়ে যেতে পারে। সরকারের উচিত সোলার সেল, উইন্ড মিল প্রভৃতির ব্যবসা খোলা করে দেওয়া,দেশী বিনিয়োগকারিদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া, বড় বড় বিদেশী কম্পানিকে দেশে নিয়ে আসা। নিজের ব্যবসার স্বার্থে তারাই জনগনকে উজ্জিবিত করবে। সরকারের শুধু দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করলেই হল।

আমাদের মনে রাখতে হবে, সমস্যাটা প্রযুক্তিগত। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে,এটা মাটি ফুড়ে বের হবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন উৎস আছে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। এই জন্য দরকার বিজ্ঞানী এবং ব্যবসায়ীদের যৌথ কার্যক্রম। সরকার শুধু এই দুই গোষ্টির মাঝে সেতুবন্ধন রচনা করতে পারে। দেশে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে যেসব বিজ্ঞানীরা কাজ করেন তাদের দিয়ে কিছু হবে না। কারন জীবনে চ্যালেঞ্জ নেবার সাহস নেই বলেই তারা সরকারি চাকরি একবার পেলে ত্রিশ বছরে আর যাবে না এই দর্শন নিয়ে চাকরি করে যাচ্ছেন। তারা কিছু এ যাবৎ করতেও পারেননি আর পারার সম্ভবণাও নেই। বিদেশে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানে আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা কর্মরত আছেন, তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দিলে নিজ দেশে কিছুটা কম বেতনে চাকরি করতে অনেকেরই বাধবে না। বরং, অধিক আগ্রহে তারা দেশের জন্য কাজ করবেন।

প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে আবেগের কোন স্থান নাই। আমরা বড়ই আবেগ প্রবন জাতি। রাস্তা ঘাট কম থাকা, অব্যবস্থাপনা, অধিক জনসংখ্যার জন্য সৃষ্টি হওয়া যানজটককে আমরা শুধুই বড়লোকের প্রাইভেটকারকে দায়ী করি। আবার নিজেরা বাসে বসে রিক্সাই সকল যানজটের মূল কারন উল্লেখ করে রিক্সাওয়ালাদের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করি। কিন্তু আমরা ভাবি না যে যার সামর্থ আছে সে কেন গাড়ি কিনতে পারলে কিনবে না? রিক্সা ওয়ালাকে যতই গালি দেই তাকে কি আমরা রাস্তায় রিক্সা চালাবার রীতিনীতি শিখিয়েছি? তাকে কি অন্য কোন কিছু করবার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি আমরা?

বিদ্যুৎ, পানি্ গ্যাস, যানজট প্রভৃতি আমাদের সমস্যা। এগুলোকে সমাধান করতে হবে অংকের মত। হিসেব করতে হবে কি আছে হাতে কি নেই। প্রধানমন্ত্রী হাজার ধরনের মানুষকে নিয়ে উঠা বসা করেন। কেউ উনি সরে গেলেই খুশি (বিরোধী দল), কেউ বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি পেলে খুশি, কারো আর কোন দাবীই নাই সে শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়, আরো কত কি! উনি যাদের খুশি করতে পারবেন না তারা তার গদি ধরে টান দেবে। বেচারীরা দেশের সবক্ষমতা কুক্ষিগত করতে পারেন কিন্তু তাদের সীমাবদ্ধতা মনে হয় সবচাইতে বেশি। ভাল কাজও চাইলে করতে পারেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই অনুরোধ করা যেতে পারে যে, দয়া করে মানুষের সমস্যা সমাধানে আগ্রহী হন। আপনার ভাবতে হবে না ষোল কোটি মানুষের দেশে আপনাকে সহায়তা করার মত অনেক মানুষই পাবেন।

পোস্টের শেষে আমি এখন। এটাই শেষ অনুচ্ছেদ। শেষ করব যেটা বলে, তা প্রথমে মাথায় রাখলে এ পোস্ট আর লিখতে পারতাম না। আজকাল এইরকম কারনে তাই আর লেখা হয়ে উঠে না। কারনটা হল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরা এত কিছু বুঝলে বা বুঝতে আগ্রহী হলেতো দেশে এইসব সমস্যা থাকত না। শান্তিতে ব্লগে আড্ডা দিতাম। এইদেশে যা কিছু নতুন নতুন হয়েছে জনগন নিজেরা নিজেরাই করেছে। মানুষ জীবিকার তাগিদে দেশ হতে বিদেশে গিয়েছে, এখন সরকার এর থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে আর জনশক্তি রপ্তানির বড় বড় কথা বলে। কিছু লোক গার্মেন্টস ব্যবসা করে লাভবান হয়েছে অন্যদের আকৃষ্ট করেছে তারপর সরকার এই খাতের প্রতি আগ্রহী হয়েছে। তেমনি আমাদেরও নিজেদেরই সোলার সেল, উইন্ড মিল প্রভৃতির ব্যবহার শুরু করতে হবে। একসময় সরকারের লোকজন নিজ স্বার্থেই এটাকে সহায়তা করবে।

Advertisements

কিছুদিন আগে আমার কোন এক পোস্টে উল্লেখ করেছিলাম আমি বর্তমানে আইসিডিডিআর, বি তে কাজ করছি। সেটা দেখে জনৈক ব্লগার জানতে চেয়েছিল, “সোয়াইন ফ্লু বিষয়ে আইসিডিডিআর, বি যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে সেই বিষয়ে কিছু বলুন”। সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়েছিলাম তাকে কিন্তু মাথার রয়ে যায় বিষয়টি। তাই আর একটু বিষদ ভাবে লিখতে চেষ্টা করছি।

বাস্তবে কোন গবেষক বা তার গবেষণা প্রতিষ্ঠান দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে খুব একটা ভূমিকা রাখবার সুযোগ তেমন পান না। যদি পাওয়া যেত তবে বিজ্ঞানীর নামের আড়ালে যে রাজনীতি অর্থনীতির খেলা চলে তা হয়ত এত বেশি হত না। আমি নিজে জীববিজ্ঞানের ছাত্র বিধায় এই বিষয়ে নিয়েই কথা বলব। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে থাকার সময়ই শেখানো হয়েছিল আমাদের লেখালেখিতে যেন বেশির ভাগ সময় Generally, usually, most probably, possible that, to our knowledge, as far as we are concern ইত্যাদি শব্দ থাকেই। Scientific writing এ absolutely, doubtless জাতীয় শব্দ গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে লিখবার কারন হচ্ছে, কোন গবেষণাই শেষ না। হয়ত কতগুলো সুনির্দিষ্ট কারনে একটা বিশেষ ব্যবস্থায় এমনটা ঘটছে কিন্তু বাস্তবে সবসময়ই এমনটাই হবে মনে করার কোন কারন নাই। সব কিছুরই ব্যতিক্রম কোথাও না কোথাও থাকতেই পারে। যদি একটা গবেষণাতেই সব প্রমান হয়ে যেত তবে পৃথিবীতে জ্ঞানের অনেক শাখাই থেমে যেত। অথচ জ্ঞানের এক শাখা হতে বিভিন্ন উপশাখা আমরা অহরহই তৈরি হতে দেখি।

যখন কোন গবেষক তার গবেষণার রিপোর্ট দেন কর্তৃপক্ষকে বা তা প্রকাশ করেন কোন স্বীকৃত জার্নালে তাকেও এভাবেই লিখতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই কোন পর্যবেক্ষণকে doubtless উল্লেখ করার পর জার্নালের Reviewer এর প্রশ্নবানে জর্জরিত লেখককে সম্পাদনা করতে হয়। যা তিনি বলেছিলেন, “এটা নিঃসন্দেহে প্রমানিত হইল।”, তার পরিবর্তে তার লিখতে হয় “আমাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এটাই মনে হয়ে যে হয়ত এমনটাই হবার বিশাল সম্ভবনা রয়েছে”।

এইসব গবেষণার ফলাফল নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন রিপোর্ট তৈরি করেন, সাংবাদিক তৈরি করেন সংবাদ। ঘাপলাটা শুরু হয় এখানেই। হয়ত গবেষণার রিপোর্টে বা নিবন্ধে লেখা হয়েছে, “আমাদের পর্যবেক্ষণে যতদূর মনে হয়, হয়ত কোন এক সময় মঙ্গল গ্রহে পানি থাকার যথেষ্ট সম্ভবনা রয়েছে। যেহেতু পানির সাথেই জীবনের সৃষ্টি জরিত, তাই হয়ত অদূর ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহে প্রানের উপস্থিতির প্রমান পাওয়া যেতে পারে”। এসবকেই আমরা খবরের কাগজে ছাপতে দেখি, “মঙ্গল গ্রহে পানি পাওয়া গেছে” অথবা “পৃথিবীর বাইরে প্রাণের উপস্থিতির প্রমান মিলেছে”। প্রতিবছরই এমনসব খবর সংবাদপত্রে পাওয়া যায়। এগুলোই হয়ে যায় বিভিন্ন বক্সঅফিস হিট মুভির উপাত্ত।

সোয়াইন ফ্লুর ক্ষেত্রেও এমনটাই হয়েছিল। আমার জানামতে আইসিডিডিআর, বিতে টেস্ট হয় এবং শুধু রিপোর্ট দেওয়া হয় যে এই স্যাম্পল পজিটিভ ঐ স্যাম্পল নেগেটিভ। রিপোর্ট খুবসম্ভবত সরকার পায় এবং তারাই এটা জনগনকে জানাবার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। বাংলাদেশে প্রথম সোয়াইনফ্লু ভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাবার পরে কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রীই জানিয়েছিল সংবাদমাধ্যমে যে বাংলাদেশে এই ভাইরাস পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে গবেষণা প্রতিষ্ঠান শুধু টেস্ট করে দেয়। সরকার যদি সিদ্ধান্ত নিত যে জনগনের মাঝে ভয়ভীতি ছড়াতে পারে তাই এইখবর প্রকাশ করা যাবে না তাহলে কিন্তু কেউ জানতেও পারত না বাংলাদেশে কখন ভাইরাস আসল, কখন ছড়াল আর কখনইবা চলে গেল। সরকারের নিজস্ব নীতি থেকেই তারা সিদ্ধান্ত নেয়। আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রত্যেক দেশের সরকারকেই এসব সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিজ্ঞানী বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এখানে করার তেমন কিছু নেই।

আর একটা বড় সমস্যা হল সাংবাদিকদের। অন্যদেশের খবর জানি না, কিন্তু আমাদের দেশের সংবাদপত্রগুলোর বিজ্ঞান বা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত খবরগুলো যারা লেখেন তাদের অধিকাংশই বিজ্ঞানের ছাত্র না। তাই বিজ্ঞান বিষয়ক খবরগুলো পড়তে হাসি পায়। জনগনকে খবর খাওয়াবার জন্য এমন ভাবে উপস্থাপন করা হয় যে তাতে মূল অর্থই হারিয়ে যায়। হয়ত টেস্ট করে পাওয়া গেছে বাংলাদেশে ৫০০ জন ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত ব্যক্তি। খবর ছাপা হবে “অর্ধসহস্রাধিক ব্যক্তি সোয়াইনফ্লুতে আক্রান্ত”। ভেতরে লেখা হবে ভয়ভীতি ছড়ানো অনেক কথা। কিন্তু লেখা হবে না কতজনের মাঝে এই ৫০০ জন আক্রান্ত। এককোটিতে মানুষের মাঝে ৫০০ জন আক্রান্ত হওয়া আর এক হাজারে ৫০০ জন আক্রান্ত হওয়া নিশ্চয়ই এক নয়? কেউ মারা গেলে যদি লেখা হয় “ফ্লুতে আক্রান্ত ব্যক্তির নির্মম মৃত্যু”। তাহলে কে না ভয় পাবে। অথচ দেখা যাবে, কয়েক লক্ষ মানুষের মাঝে এই একজনই মারা গেছেন এবং মৃত্যুর হয়ত ফ্লু ছাড়াও অন্য কারন আছে। বিজ্ঞানের প্রত্যেক শাখাতেই কিছু এমন শব্দ থাকে যা বিশেষ অর্থ বহন করে। এগুলো অন্য বিষয়ের ছাত্রের জন্য বোঝা মুশকিল। একটি রোগের ২০০১ থেকে ২০০৯ Prevalence হল 500 এটার অর্থ ২০০৯ পর্যন্ত মোট ৫০০ জন আক্রান্ত ব্যক্তি পাওয়া গেছে। কিন্তু যদি লেখা হয় ২০০৯ সালে ৫০০ ব্যক্তি ঐ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তাহলে কিন্তু এর মর্মার্থ অন্যরকম হয়ে যায়।

শুধু সাংবাদিকরাই নয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের আর্থিক সুবিধার জন্য গবেষনার ফলাফলকে ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করে। এনজিওগুলো ফান্ড আনার জন্য ভাল পরিস্থিতিকে খারাপ ভাবে উপস্থাপন করে, সরকার ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য খারাপ পরিস্থিতিকে ভাল করে। এইসব ক্ষেত্রে গবেষনা প্রতিষ্ঠান বা গবেষকের কিছুই করার থাকে না। পলিসিমেকাররাই সব কিছু নিয়ন্ত্রন করে। Science Vs Journalism Drama

স্কুলে পড়ার সময় বাবার সাথে মাঝে মাঝে বইমেলায় যাওয়া হয়েছে। তখন আমি বই দেখতাম, বাবা নিজের পছন্দে বই কিনে দিত। বেশির ভাগ জীবনী বা নামি দামি উপন্যাস; উদ্দেশ্য চরিত্র গঠন। ২০০২ সালের বইমেলাটা আমার জন্য অন্যরকম ছিল। সেবার বইমেলায় গিয়েছিলাম প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে। বইমেলাটাকে খুব আপন মনে হচ্ছিল সেদিন। এরপর সব কটি বছর বইমেলা আমার বিভাগের পাশেই হত। অনেকেই ঘটা করে বইমেলায় যায় আর আমি হাটতে হাটতে একটু একটু করে প্রতিদিনই বইমেলায় ঘুরে আসতাম। যেমন ঘোরাঘুরি করা হয় নিজের বাসায় এই রুম সেই রুমে। বই কেনা হয় প্রতিবারই্ তবে ছাত্র জীবনে পকেটের হিসেব রাখাটা জরুরি ছিল। অপেক্ষায় রইতাম কবে চাকরিতে ঢুকব আর ইচ্ছা মত বই কিনব। এবার এল সেই সুযোগ, তবে এখন সময় সীমিত। অতিব্যস্ততায় বই মেলায় মাত্র একবার অল্প সময়ের জন্য যাওয়া হয়েছে। তবে এবারের ফেব্রুয়ারির আমেজ গত বছর গুলোর থেকে আলাদা। প্রথমেই একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি।

১৪ ফেব্রুয়ারি আমরা কয়েক বন্ধু মিলে গেলাম বই মেলায়। অল্প ঘুরে মেলার বাইরে রাস্তার আইল্যান্ডে বসে বাদাম খাচ্ছিলাম। তখন এক মধ্য বয়স্ক ব্যক্তি একটা পোস্টার নিয়ে এলেন। লোকটা অনুমতি নিয়ে কথা বলা শুরু করল। সে বলে, তারা ভাষা শহীদদের ছবি সম্বলিত একটা পোস্টার বার করেছে। এটা আলাদা এই দিক দিয়ে যে তাদের পোস্টারে সালাম ভাইয়ের (!) ছবি আছে। সালাম ভাইয়ের কোন ছবি নাকি আগে পাওয়া যায়নি। ঐ লোকের কম্পানি নাকি সালাম ভাইয়ের দুইভাইয়ের ছবি জোগার করে সালাম ভাইয়ের সম্ভাব্য ছবি তৈরি করেছে কম্পিউটারে। দাম মাত্র বিশ টাকা, বিশ টাকা, বিশ টাকা। আমরা বললাম না নিব না। লোকটা একটু অনুরোধ করে চলে গেল। আমরাও বাদাম চিবাতে মন দিলাম। হঠাৎ আমরা থমকে গেলাম, আরে সালাম ভাই মানে? এমন ভাবে বলছিল যেন, এলাকার পোলা সালাম ভাইয়ের ছবি। তার উচ্চারণে কোন শ্রদ্ধা ছিল না। সে বলতে পারত, শহীদ সালামের ছবি। লোকটারে একটা থাপ্পড় দিতে ইচ্ছা হল। খুজলাম কিন্তু শত মানুষের ভীড়ে আর হদিস পাওয়া গেল না। ব্যবসা করার জন্য মানুষ কত ধান্ধাই না করে থাকে। নিজেরা এই ব্যাপারে কথা বলতে বলতে ফিরে এলাম।

টিভি তেমন একটা দেখি না এখন। তাই খবর বা বিজ্ঞাপনও দেখা হয় না। খবররের কাগজের বিজ্ঞাপনগুলো অনেক আগে থেকেই এড়িয়ে চলি। দুই তিনদিন আগে এক বান্ধবির বিয়েতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহপাঠির সাথে দেখা। সে বলে, ২১ তারিখের র্যা লিতে যোগ দিতে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কিসের র্যা লি? সে বলে বাহান্নর একুশে ফ্রেব্রুয়ারির আন্দোলনের বিখ্যাত আমতলায় গ্রামীন প্রথমালো ত্রিশ মিনিটের র্যা লি আয়োজন করছে। আরো কিছু চেতনা সম্বলিত বাক্য সহপাঠির মুখে শুনলাম। একটু অবাক হয়েও আবার বাস্তবে ফিরে এলাম। অবাক এই জন্য যে, এই সহপাঠির মুখে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ শব্দগুলো একটু বেমানান। শিবিরের ছেলেদের সাথে উঠাবসা, আলোচনায় বাঙালির বিভিন্ন অর্জনকে কটাক্ষ করা এই ছেলেটা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ দিকে বুঝতে পারে ক্ষমতায় লীগ আসবে। অতি নিপুনতায় আওয়ামী পন্থি শিক্ষক ও এক ছাত্রদল হতে আগত ছাত্রলীগ সহপাঠির ল্যাঞ্জা ধরে এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়। অতএব, তার মুখে এসব এখন শুনতেই হবে। যাইহোক, ফিরে এসে খবরটা ভাল ভাবে শুনলাম। গ্রামীন ফোন, প্রথমালো ইত্যাদি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের বিজ্ঞাপনের পণ্য হিসেবে এবার ভাষা আন্দোলনকে বেছে নিয়েছে। ভাবতে ভালই লাগে বাঙ্গালির ব্যবসায়িক দৃষ্টি দিন দিন উন্নত হচ্ছে। আর যাই হোক এই বুদ্ধি নিশ্চয়ই কোন না কোন বাঙ্গালি মার্কেটিং কর্মকর্তার মাথা থেকেই এসেছে। তবে ভাবতে দুঃখ লাগে তাদের সহযোগী হলেন তিনজন ভাষা সৈনিক। জানি না ভাষার প্রতি কি আবেদন তারা এই নাটকে খুজে পেলেন। কত কিছুই না দেখলাম আমাদের পথ পদর্শকদের কাছ থেকে। জীবন সায়াহ্নে সারা জীবনের কর্মকান্ডের উপর কর্পোরেটের ধুলা ছড়ানো কতটা জরুরি ছিল তা তাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন। তবে, এই একটি ঘটনার দায়ভার তাদের ঘাড়ে চাপানো উচিত হবে না। আমরা হয়ত জানি না, কিন্তু পেছনে আছে নিশ্চয়ই কোন না কোন মীর জাফরের প্যাচ। গ্রামীন, প্রথমালোর সেই দালালরা হয়ত ভাষা সৈনিকদের অজান্তেই তাদের চেতনা বিক্রি করে দিয়েছে। হতাশা থেকে যে যায় যে, আমাদের গর্বের মানুষগুলো এখনও মীর জাফরদের চিনতে শিখল না। মুজিব-জিয়া বলি আর মতিন-রফিক-বাচ্চু বলি কেউই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিল না। আরো কত কিছু দেখব জানি না। হয়ত এবার আসবে, “রক্তাক্ত নয় মাস”। শ্লোগান হবে, “চেতনা দেখান গ্রামীন ফোনে কথা বলুন নয় মাস”।

Dhaka Uni, Mol chottor
অনেক দিন পরে আজ ঢাবি ক্যাম্পাসে যাওয়া হল। একসময়ের খুব প্রিয় এই এলাকাটা এখন এড়িয়ে চলতে ইচ্ছে হয় এবং তাই চেষ্টা করি। ছাত্রত্ব হারালাম মাত্র ছয় মাস অথচ এখনই এই অবস্থা। আগে মাঝে মাঝেই নিজের উপর বিরক্ত হতাম এখানে ভর্তি হবার জন্য। কারনগুলো এখন আর লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে না। বিরক্তি সব ধুয়ে যেত যখন নীলক্ষেত দিয়ে রিক্সায় ক্যাম্পাসে ঢুকতাম। ভিসির বাসার সামনে মল চত্তরের বিশাল গাছটি মনে হয় স্বাগতম জানাতে দাঁড়িয়ে থাকত। কলাভবনের সামনের রাস্তায় দুই ধারের গাছগাছালি যেন মাথা নত করে স্বাগতম জানাচ্ছে। বিভিন্ন লতা পাতায় সাজানো রাস্তায় মাঝের আইল্যান্ডটা যেন কোন বিশাল প্রাসাদের মখমলে মোড়া সোফা। সব চাইতে মন কাড়ে যদি জারুল গাছে বেগুনী ফুলগুলো থাকে। ফাকে ফাকে লাল কৃষ্ণচুড়া, হলুদ রঙের ফুলের গাছ মাঝে একটা সাদা রঙের ফুল গাছও আছে কলাভবনে। মনটা নেঁচে উঠত, নিমিষেই হাওয়া হয়ে যেত সব অভিযোগ। বিকেলে যখন বাসের জন্য অপেক্ষা করতাম, গাছগুলোর মাথায় সূর্যের আলো থাকত। মুগ্ধতায় স্তব্ধ হওয়া ছাড়া গতি ছিল না।

মোকাররম ভবনে ডিপার্টমেন্ট আর সাইন্স লাইব্রেরী দুটিই থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনান্য প্রান্ত গুলোতে তেমন যাওয়া হয়নি। এমনকি টিএসসিতেও না। ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়ে নতুন আমেজে কয়েকবার বন্ধুরা মিলে গিয়েছিলাম সেখানে আড্ডা দিতে। পরে আর সময় কুলাতে পারিনি। সকালে নয়টা- একটা টানা ক্লাস, তারপর দুই-পাঁচটা প্রাকটিকাল, শনিবার সকালে মিডটার্ম থাকায় শুক্রবারে পরীক্ষার প্রস্তুতি আড্ডার জন্য রুটিনে কোন সময় বরাদ্দ করতে দেয় নি। অনেকটা কিন্ডারগার্ডেনের মতই ছিল আমাদের জীবন যা ঢাবিতে অনেকটাই অনাকাঙ্খিত।

আজকে রিক্সা দোয়েল চত্তর অতিক্রমের পরে মোকাররম ভবনের গেটে রিক্সাওয়ালাকে বললাম ডানে যাও। ঠিকই বলেছিলাম যদিও আমি প্রায়ই ভুলে ডান-বাম গুলিয়ে ফেলি। ডানের স্থলে বামে যাও বলায় রিক্সাওয়ালাও মাঝে মাঝেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠের গেট দিয়ে রিক্সা ঢুকিয়ে দিত। আজ তেমনটি হল না। আমি আজও অনুভব করতে পারি, মোকাররম ভবনের প্রবেশ পথ দিয়ে প্রথম এখানে ঢুকবার অনুভূতি। আমাদের বিভাগটি আগে কার্জন হলে ছিল, তাই চান্স পাওয়ার পরে অনেকের কাছ হতেই জেনেছিলাম ডিপার্টমেন্টটা কার্জন হলে। পর পর দুই দিন খুজেও পাই নি তখন। পরে তখনকার অগ্রনী ব্যাংকের ম্যানেজার আংকেল বাবার কলিগ হবার সুবাদে নিজেই ডিপার্টমেন্টে পৌছে দিয়েছিলেন। আমাদের ডিপার্টমেন্টটা নতুন সাইন কম্পলেক্স বিল্ডিংএ খুবই আধুনিক লাগত। গর্বে বুক ফেটে যায়নি এই ভরসা।

বিভাগের প্রতিষ্ঠাতার নামানুসারে একটা সেমিনার লাইব্রেরী আছে, প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী মেমোরিয়াল সেমিনার লাইব্রেরী।
ডিপার্টমেন্টে ঢুকে প্রথম এখানেই আসি ভর্তির ফর্ম ফিলাপের জন্য। এখানেই সেই সব বন্ধুদের সাথে দেখা যাদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন পাড়ি দিয়েছি। তখন কোন কম্পিউটার ছিল না, কিন্তু প্রানবন্ত ছিল। এখন অনেকগুলো কম্পিউটার, সাথে এসিও লেগেছে কিন্তু প্রান নেই। আসলে কি প্রান নেই? উক্তিটি আসলে আমার সাপেক্ষে। এখনকার ছাত্র ছাত্রীদের কাছে নিশ্চয়ই এই লাইব্রেরিই প্রানবন্ত। আমাকে প্রান দেবার জন্য আমার বন্ধুরা এখন আর নাই, আমার মত ওরাও ব্যস্ত। তবে হ্যা, আমরা আরো একটা এলাকা পেয়েছিলাম যা এখনকার ছাত্রছাত্রীরা পায় নি। আমাদের একটা রিডিংরুম ছিল। সেখানে সিনিয়র-জুনিয়র সবাই আড্ডা, চিল্লাচিল্লি সবই করা যেত। আমাদের ফিরোজ ভাই স্যারদের জন্য খাবার দাবারের ব্যবস্থা করতেন। সেই সাথে তিনি আমাদের জন্যও সিঙ্গারা, সমুচার ব্যবস্থা রাখতেন, ফ্রিজে সফট ড্রিকংসও থাকত। নিজ ঘরের মত নিয়ে খেয়ে ফেলতাম, তবে ফিরোজ ভাইয়ের হিসাবে কখনও ঝামেলা হয়েছে বলে শুনিনি। এই সুবিধাটা এখন নেই। জনৈক ধর্মপরায়ন ও নীলাভ শিক্ষক বিভাগীয় চেয়ারম্যান হবার পর রিডিং রুমটির অর্ধেক নামাজের জন্য বরাদ্দ দেন। ফলাফল এই যে আজ সেখানে কেউ নামাজও পড়ে না, ছাত্রছাত্রীদের গুঞ্জনও শোনা যায়না।

আমাদের আড্ডার অভাব পূর্ণ হয় ক্যাফে ক্যাম্পাসে। আইএসআরটিতে ঢুকবার রাস্তার পাসে কিছু জায়গা খালি ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেটাকে একটা ক্যাফেতে পরিনত করে। সুন্দরই ছিল জায়গাটা। সবুজ ঘাসে ঢাকা গাছগাছালির মাঝে টাইলস দিয়ে বাধানো সুন্দর সুন্দর বেঞ্চ। দুইটি কৃত্তিম ঝর্ণাও ছিল। আমাদের মত নিরস কিন্ডারগার্ডেনের ছেলেমেয়েদের জন্য জীবনে খানিকটা রস আনার ভাল সুযোগ ছিল সেখানে। বাইরের জুটিও আসত, তবে বিকেলের দিকে। ক্যাফে ক্যাম্পাসও এখন ইতিহাস। ক্যাফে ক্যাম্পাস নাম নিয়ে যা বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসির এক কোনায় টিকে আছে তা টং দোকানের আধুনিক রূপ।

সাইন্স লাইব্রেরীর পেছনের অংশটা আসলেই মোহনীয়। ছেলে মেয়েরা সেই দিকটায় তেমন ভীড় করে না। সৌরশক্তি গবেষণা কেন্দ্রের সামনে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের একটা দারুন বাগান আছে। সেখানের সারাবছরই শাপলা ফোটে, নীল শাপলা। শাপলার ট্যাবের সামনেই একটা বাঁশ ঝাড়। এই বাশ ঝাড়টাও হয়ত একদিন হারিয়ে যাবে, তবে আমি এটার অসিত্ব অনুভব করব সব সময়। বিকেল বেলা যখন ডিপার্টমেন্ট থেকে বের হতাম মূল মোকাররম ভবনের লম্বা ছায়া থাকত। শুধু বাঁশ ঝাড়টায় সূর্যের আলো থাকত, এটা একটা রুপ। আবার যখন ঝড় আসে আসে অবস্থা এই বাঁশ ঝাড়ের শন শন শব্দ ভুলিয়ে দিত আমরা ব্যস্ত ঢাকা শহরের মাঝে আছি। সাইন্স লাইব্রেরীর পেছনে একটা বিশাল গাছ আছে যার নিচের অংশ পুরোটাই মানিপ্ল্যান্টের বড় বড় পাতায় ঢাকা। এখানে একসময় আমাদের ডিপার্টমেন্টের ভেড়াগুলো চড়ত। এই ভেড়াগুলোকে আদর করে পালন করা হত কারন ওদের রক্ত আমাদের দরকার। জনৈক শিক্ষক চেয়ারম্যান হবার পর ভেড়াগুলোকেও বিক্রি করে দিলেন রাখলেন একটা। শিশু ভেড়াটা আর কতই বা রক্ত দিতে পারে। একদিন মরে গেল। এরপর আমাদের রক্তের জন্য মহা ঝামেলা করতে হত। যার দরকার তার নিজ টাকায় মুরগি কিনে রক্তের ব্যবস্থা করতে হত। শুনেছি, জুনিয়র এক মেয়ে ঝামেলা এড়াতে নিজের রক্তেই কাজ সাড়ে।

ডিপার্টমেন্টের বাইরে যেখানে আমার নিয়মিত যাওয়া হত সেটা সাইন্স লাইব্রেরী। প্রথম তিন বছর আমার লাইব্রেরী কার্ড কখনও খালি থাকে নাই। ১৫ দিনের মধ্যে বই জমা দিতে না পেরে কত যে পঞ্চাশ পয়সা জরিমানা দিতে টিএসসির জনতা ব্যাংকের লম্বা লাইনে দাড়িয়েছি তার সংখ্যা মনে নাই। একে একে ছেলে মেয়েরা জমা দিচ্ছে দুই হাজার তিন হাজার, পাঁচশ ছয়শ আর আমি দিচ্ছি পঞ্চাশ পয়সা। লাইব্রেরীটা ক্লোজ সিস্টেম, মানে আমাদের সেলফে এক্সেস নাই। তাই বইয়ের এক্সেস কোড লিখে দিতে হত। কত বইয়ের আইডি যে আমার মুখস্থ ছিল তার হিসাব নাই। একবার এক বই এক টাকাও জরিমানা না দিয়ে ছয় মাস রেখেছিলাম। ১৫ দিন পরে সবার শেষে জমা দিতাম, পরদিন সবার আগে তুলে ফেলতাম। লাইব্রেরীয়ান গাইগুই করত, কিন্তু আমি আইন দেখাতাম। আইনে এই ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে। লাইব্রেরীতে একটা থিসিসের ছাত্রছাত্রীদের জন্য রুম ছিল। গুগল পাবমেডের যুগে সেই কোনায় কখনও যাওয়া হয় নাই।

সেকেন্ড ইয়ার পর্যন্ত বোটানি আর বায়োকেমিস্ট্রি ক্লাস করতে কার্জন হলে যেতে হত। কেমিস্ট্রি ক্লাস ছিল ভোরে। বসন্ত ঋতুতে ভোরের বেলায় কার্জন হল অন্যরকম সাজে। বায়োকেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের দিকের গেট দিয়ে ঢুকলে চারটা হলুদ ফুলের গাছ দেখা যায়। খুবই গাঢ় হলুদ সেই রঙ, গাছের নিচেও ছড়িয়ে আছে কার্পেটের মত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অল্প কয়টা নিয়মিত কাজের মাঝে একটা হয়ত কার্জন হলের পরিচর্যা। কাজটা সিরিয়াসলিই করা হয়।

পুরানো ঢাকায় মানুষ আমি। দাদার একটা বাড়ি আছে এলিফেন্ট রোডে। মাঝে মাঝে বাবার সাথে সেখানে যাওয় হত। মন খুব চাইত রিক্সা যেন রমনার সামনে দিয়ে না গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে যায়। বাবা কার্জন হল দেখিয়ে বলত, “লেখা পড়া ভাল মত না করলে এখানে চান্স পাবে না, গিফারি কলেজে পড়তে হবে”। জানি না এত কলেজ থাকতে উদাহরনে কেন গিফারি কলেজ আসত। যাই হোক গিফারি কলেজে পড়তে হয়নি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়েছি। জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সাত বছর কাটল এই ঠিকানায়। কেন গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্নের উত্তর হবে আমি আসলেই এখানে মানুষ হয়েছি, মানুষকে চিনতে শিখেছি। শিক্ষক হিসেবে যারা বেতন পান শুধু তারাই নয় আমার সহপাঠিরা, বন্ধুরা সবাই এক ধরনের শিক্ষক। এক একটা অদ্ভুত মানব চরিত্র, যা ভবিষ্যতের বিশাল পৃথিবীর একটা ছোট্ট সংস্করণ। ফেলে আসা দিনগুলোর পাতা উল্টালে দেখতে পাই ভয়ানক পার্থক্য সেই আমি আর এই আমির মাঝে। সেই আমি ভালবাসতাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এখন আর বাসি না। সেই সুন্দর অঞ্চলটাতে রিক্সায় ঢুকতে হলে চেষ্টা করি যেন ভিন্ন পথ ধরা যায়।

জারুল ফুলগুলো এখন আর মান ভাঙ্গাতে পারে না।

বিদ্র: লেখাটা আবারো পড়লাম। হঠাৎ মনে হল, নতুন ব্লগাররা কেউ কেউ মনে করতে পারেন ছ্যাকা ট্যাকা খেয়ে ক্যাম্পাস এলাকার নিয়ে বিরহ কিনা। উত্তর হবে, না।

টিপাইমুখ গড়িয়ে অনেক পানি সুরমা কুশিয়ারা হয়ে মেঘনায় গড়াল। তবে এই বোধ হয় ইতি। প্রথমে স্রোতে পড়বে টান, তারপর পানির পরিমানে তারপর শুধু ধুঁ ধুঁ বালুচর। একেবারেই হারিয়ে যাবে অনিন্দ সুন্দর প্রকৃতি, নদী কেন্দ্রিক বাংলা হয়ে যাবে স্মৃতি। ভাবতে কষ্ট হয়, নদী বিহীন এই বিশ্বের বুকে কোন বাংলার অস্তিত্ব!

আজপর্যন্ত যা বুঝলাম, তার সারমর্ম হল টিপাই মুখে একটি বাঁধ বা কারো কারো ভাষায় ড্যাম হতে চলছে। এটা হবেই, আমরা যাই বলি না কেন। আমাদের জাতির মহান নেতা শেখ মুজিব। তিনি ভারতের ফারাক্কা বাঁধ নির্মানে সম্মতি দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রতি শেখ মুজিবের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষমতা আমার নেই, তাই ধরে নিচ্ছি ভারতের প্রতি সরল বিশ্বাসেই তিনি ফারাক্কায় বাধ নির্মানে সম্মত হন। এই সম্মতির ফলাফল যে ভয়ংকর হবে তা সেদিন মাওলানা ভাসানী বুঝতে পেরেছিলেন বলেই হয়েছিল তার ঐতিহাসিক লংমার্চ। তিনিও এ জাতির এক মহান নেতা। শেখ মুজিবের ভুল বিশ্বাস, মাওলানা ভাসানীর ব্যর্থ প্রচেষ্টা সর্বোপরি আমাদের অসাড়তার ফলাফল আজ গড়াই নদী ইতিহাসের পাতায়, পদ্মার বুকে বালুচর।

সেদিন শেখ মুজিবের সামনে বাঁধের ভয়াবহতার এবং ভারতের চুক্তিভঙ্গের কোন উদাহরণ ছিল না। অথচ, আজ সংসদের তিন চতুর্থাংশ আসন জয় করে ক্ষমতায় অসীন বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছে পিতার আমলের ভুল সিদ্ধান্তের উদাহরণ আছে। অথচ, তিনি, তার দেশপ্রেমিক মন্ত্রী, এমপি (কেউ কেউ বীর মুক্তিযোদ্ধা) তারা কেউই ফারাক্কা বাঁধের ভয়াবহতাকে আমলে নিচ্ছেন না। চোখের সামনে মরা পদ্মা রেখে যারা আজ টিপাই মুখ সমর্থন করে গলাবাজি করছেন তাদের উদ্দেশ্য সৎ বলে ধরে নিতে ব্যর্থ হলাম। সরকারই যখন দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিতে বদ্ধপরকর তখন আম জনতা আর কি করতে পারে। হায়! এখন ভাসানীর ন্যায় কেউ আর নেই। বিএনপি প্রতিবাদ করছে, কিন্তু সেটাতো নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে! মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া এই বঙ্গদেশে আমরা দেশপ্রেমিক জনগন বিএনপির ফাঁদে পা দিয়ে টিপাই মুখের বিরোধিতা করে তো আর রাজাকার সীল লাগাতে পারি না! টিপাই মুখে বাঁধ হবে বা হয়ে যাচ্ছে। বাঁধের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে যাচ্ছেন দেশপ্রেমিক (!) আওয়ামী প্রতিনিধি দল। ফিরে তারা বলবেন, “চিন্তার কিছু নেই, সুন্দর বাঁধ হচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাবে”। “দেশ” বলতে কোন দেশ বোঝাবেন তা ইতিহাস সাক্ষীদেবে।

আন্তর্জার্তিক আইন, পানি বন্টন, নদীর পানির ইউনিট কিউসেক, বাঁধ বা ড্যামের পার্থক্য এত কিছু আমি বুঝি না। শুধু বুঝি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা পড়লে, দু’তীরে হাজার হাজার বছর ধরে গড়ে উঠা প্রাকৃতিক সম্পদ, জনজীবন সব বিনষ্ট হবে। বরাক নদী হতে বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে সুরমা আর কুশিয়ারা, এ দুটো মিলে মেঘনা নদী। মানুষের লিখিত ইতিহাসে বাংলাকে প্রথম পরিচিত করে মেঘনা নদী। টলেমি লিখে গেছেন, সম্রাট আলেকজান্ডার সেই মেসিডোনিয়া হতে ভারত পর্যন্ত জয় করে এসে বাধা পেয়েছিলেন তৎকালীন ভারতের গঙ্গাঋধি রাজ্যে, যা বর্তমান বাংলা। সামরিক বিশেষজ্ঞরা আলেকজান্ডারকে বর্ণনা দিয়েছিলেন গঙ্গাঋধির বিশাল হস্তিবাহিনীর। মেগাস্থেনাসের ইন্ডিকাতে বর্ণনা আছে, গঙ্গাঋধির বিশাল মাঘোন (আমাদের মেঘনা) নদীর কথা। যার এক তীর হতে অন্য তীর দেখা যায় না। দু পাশে প্রচুর ধান উৎপন্ন হয়, সেই ধান হতে তৈরি মদ খাওয়ানো হয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হাতিদের। এই হাতির ভয়ে আলেকজান্ডারের সৈন্যরা এগিয়ে যেতে অস্বীকার করলে, আলেকজান্ডার মেসিডোনিয়ার দিয়ে ফিরতি যাত্রা শুরু করেন। এসব ইতিহাসের সাক্ষি মেঘনা এবার হয়ত নিজেই ইতিহাস হবে।

পদ্মা, মেঘনা এই নদী গুলোই সব নয়। আছে এদের শাখা প্রশাখা। জালের মত বিস্তৃত এই বাংলার মানুষের সংস্কৃতি, সাহিত্য, আচার আচরণ সব কিছুরই ভিত্তি নদী। বাঙ্গালিকে নাকি শাসন করা খুব কঠিন। এরা নিজেই নিজের রাজা। ইতিহাসে কেউই বাংলাকে শান্তিতে শাসন করতে পারে নি। জালের মত এই অঞ্চলের ভুখন্ডগুলোকে নদী আলাদা করে রেখেছে। নদীর ভাঙ্গনে ভৌগলিক সীমারেখা কখনই স্থির হয়নি। বিধায় দৃঢ় কোন সামাজিক সংগঠনও আমাদের এই অঞ্চলে তেমন দেখা যায় না। শাসিত হতে আমাদের বড় ভয়। কেউ জোড় করতে এলেই আমরা বিগড়ে যাই। এবার মনে হচ্ছে বাঙ্গালি নামের পাগলা ঘোড়াকে বেঁধে ফেলা গেল। হাজার হোক ভারত বর্ষের এই জাতিটিই স্বাধীন দেশের অধিকারি।

আজ যারা ভারতের কাছে স্বেচ্ছায় মাথা নত করে টিপাই মুখ মেনে নিল তারা শুধু আগামী পাঁচ বছরের জন্যই অপরাধ করল না। তারা অপরাধ করল এই নদীর দ্বারা পুষ্ট হাজার হাজার বছর অতীতের এবং আগত ভবিষত্যের কাছে। আজ হতে হাজার বছর পর জন্ম নেওয়া বাঙ্গালিটি যখন নিঃশেষ হয়ে যাওয়া মেঘনার উপহার থেকে বঞ্চিত হবে, তার কাছে অপরাধী হবে এই বিশ্বাসঘাতকরা।

একাত্তরের রাজাকারেরা একাত্তরের অপরাধী। তাদের তৎকালীন যুদ্ধাপরাধের জন্য আমরা তাদের বিচার করার জন্য আইনের আশ্রয় নিতে পারি। কিন্তু যাদের অপরাধ কাল নিরপেক্ষ কোন আইনে তাদের বিচার করব? রাজাকারদের রাজাকার বলি কারন তারা স্বেচ্ছায় জন্মভূমির স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছিল। আজকের এই বিশ্বাসঘাতকেরা কি স্বেচ্ছায় বিশ্বাস ঘাতকতা করছে না? তবে রাজাকার গালি এদের কেন দেব না?

দীর্ঘশ্বাস ফেলে, হতাশাভরে লিখতে হচ্ছে, নিকট ভবিষ্যতে সুরমা, কুশিয়ারা, মেঘনা আর এভাবে প্রবাহিত হবে না। তার বুকে রইবে ধুঁ ধুঁ বালুচর। তবে সময়ের কাছে সাক্ষি দিয়ে যেতে চাই, “আমি এই বিশ্বাসঘাতকদের সাথি ছিলাম না। মুক্তিযুদ্ধের বিশ্বাস ঘাতকদের যেমন আমি রাজাকার বলে ঘৃণা করেছি, তেমনি বাংলার বর্তমান বিশ্বাসঘাতকরাও রাজকার ভিন্ন আমার কাছে আর কিছুই না”।


টিপাই মুখে বাঁধ: কালের কাছে এক বাঙালির স্বীকারোক্তি

ইদানিং বাঙ্গালি ব্লগার সংখ্যার বিস্ফোরণ ঘটছে বলে মনে হয়। কত নতুন নতুন নিক/নাম। কিন্তু সেই তুলনায় ব্লগ ঢিলা হয়ে গেছে। বছর খানেক আগের ব্লগিংইয়ের সাথে মিলাতে গেলে হতাশ হই। সেই সাথে যুক্ত হয়েছে একটা নতুন আপদ। আজকাল অনেকেই পোস্ট দিয়ে কমেন্ট, হিট প্রভৃতির জন্য কান্নাকাটি করে। মনে হয় তাদের ব্লগে আসবার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশিষ্ট হিট ব্লগার হওয়া। বেচারা নাফিসের তাদের পোস্টে আনন্দ সহকারে তার হিট বাড়াবার পোস্টগুলোর লিংক ছেড়ে আসতে হয়।

আমি যখন এই ব্লগে আসি তখন লোভনীয় দুইটি প্যানেল ছিল। পেইজের বামদিকে শীর্ষ পোস্টদাতা ব্লগয়ার ও ডানের নিচের দিকে সর্বাধিক জনপ্রিয় পোস্ট। নিজের লিংক আলাদাভাবে সেখানে প্রদর্শনের একটা সুযোগ ছিল কিন্তু, তখনও কাউকে “আমার পোস্ট কিভাবে জনপ্রিয় হবে” জাতীয় কান্নাকাটি করতে দেখা যায় নাই। কমেন্টের প্রতি একটা লোভ সবারই থাকে, আমারও ছিল। আমি কি লিখলাম, সেটা অন্যের কাছে কেমন লাগল তা জানতে কে না চায়। তবে ব্লগে প্রধানত জনপ্রিয় হতে কেউ ব্লগিং করত কিনা সন্দেহ।

নতুন ব্লগারদের জন্য কিছু বলতে চাই। ব্লগিং এর সাথে অন্য মিডিয়ার পার্থক্য হল এখানে লেখক তার লেখাকে পাঠক দ্বারা সরাসরি যাচাইয়ের একটা সুযোগ পাচ্ছে। অনেকটা বিভিন্ন ফোরামের মত। তবে ফোরামগুলোর কিছু প্রাইম এজেন্ডা থাকে। যেমন কোথাও প্রযুক্তি, কোথাও বিজ্ঞান, কোথাও সাহিত্য, ইতিহাস বা অন্য কিছু। সেখানে অন্য বিষয়ে লেখা যেতে পারে তবে তা মূল আলোচনার বাইরের বিষয় হলে অনেকটা বেখাপ্পা লাগবে। ফোরামগুলো হতে ব্লগিং পার্থক্য হল, এখানে কোন নির্দিষ্ট এজেন্ডা নেই। যা ইচ্ছা তাই লিখতে পারেন। এটাই এখানের বৈশিষ্ট্য।

ব্লগার তার ইচ্ছে মত লিখে যাবে, পড়ে যাবে। অন্যকারো জন্য সে বসে রইবে না। কোথাও কোন বাঁধা নাই। আমার কোন লেখার সমালোচনা যে কেউ করতে স্বাধীন, কিন্তু কেউ এটা বলতে পারবে না, “এটা কেন লিখলেন, এটা লেখা নিষেধ” (যতক্ষণ না তা অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে।)। সেই হিসেবে, “আমার পোস্ট কেউ কেন পড়ে না”, “কিভাবে কি করলে অনেক লোকে পড়বে” টাইপের পোস্ট দেওয়াতেও কোন বাধা নেই। তবে আমি মনে করি শুধু হিট বাড়ানো, বা জনপ্রিয় হবার আশায় লিখলে নব্য ব্লগার ব্লগিং এর আনন্দ হতে নিজেকে বঞ্চিত করবেন। শুধু তাই নয় নতুনরা একসময় হতাশও হয়ে পড়বেন।

তাই নতুন ব্লগারদের জন্য বলতে চাই, “নিজের মনে যা আসে লিখে যান, কে পড়ল, কতজন পড়ল সেই হিসাব করা দরকার নাই”। যদি আপনার মন সুন্দর হয়, চিন্তা স্পষ্ট হয় এবং সুন্দর মন ও চিন্তাকে লিখে সুন্দর করে উপস্থাপন করবার ক্ষমতা আপনার থাকে বা আয়ত্ত্ব করতে পারেন তবেই আপনি অন্যের কাছে প্রিয় হতে পারবেন। তখন দেখবেন, আপনি ব্লগে ব্যস্ততার জন্য আসতে পারছেন না কিন্তু ব্লগাররা আপনাকে, আপনার লেখাকে মিস করছে। তখনই পোস্ট দিন যখন আপনার মন চাইছে কিছু লিখতে। পোস্ট দিতে হবে নিজেকে নজরে আনতে, এই লক্ষ্যে কখনই পোস্ট দেবেন না। এতে নিজেকে স্বাধীন ভাবে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হবেন।

ব্লগে নিজেকে স্বাধীন করে দিন, দেখবেন এমনিতেই বাড়ছে আপনার হিট। তখন আপনিও উপভোগ করবেন বাঁধ ছাড়া স্বাধীনতা, অন্যরাও জানবে আপনার ভিতরের এতদিনের সুপ্ত প্রতিভা।

নাদান ব্লগারদের উদ্দেশ্যে

বিলেতের ইংলিশ চ্যানেল, লন্ডনের টেমস্‌ নদীর নাম সেই ছোটবেলা থেকে শুনেছি। ব্রজমোহন নামের এক ব্যক্তি সাঁতার কেটে ঐ বিলাতি চ্যানেল অতিক্রম করেছিলেন। বিশ্বের অনেক নামী দামী শহর গড়ে উঠেছে কোন না কোন নদীর তীরে। শহরবাসী তাদের সেই সব নদীগুলোকে সাজিয়ে রেখেছেন ছবির মত। সকালে তার তীর ঘেষে চলে তাদের হাটা হাটি, মন খারাপ হলে একাকী নদীর সাথে কাটানো আরো কত কি! সমুদ্র তীরে বিস্তৃত সমুদ্রের বিশালতা মানুষের মনকে নাকি প্রসারিত করে দেয়। সংকীর্ণ চিন্তা ছাপিয়ে বিশালতা জায়গা করে নেয়। অস্থির মন হয় শান্ত। সব নগরের নাগরিক এই সুযোগ পায় না। প্রশস্ত নদীই তাদের সমুদ্রের অভাব মেটায়।

নগর জীবনে বিশালতার স্থান কোথায়? মুখ তুলে কোথাও তাকালে দৃষ্টি কতটুকুই বা প্রসারিত হবার সুযোগ পায়? যে দৃষ্টি কখনও বিশালতার ছোঁয়া পায় নি, সে হয়ত বুঝবে না এর গুরুত্ব। কিন্তু, যে সমুদ্রের তীর ঘেঁষে একদিন দাঁড়িয়েছিল তার কাছে বিশালতার তৃষ্ণা থাকবে সবসময়। ২০০৮ এর শুরুতে সমুদ্রের বিশালতার ছোয়া পেয়েছিলাম সেন্টমার্টিনে। ফিরতে না ফিরতেই মন জানান দিল তার অতৃপ্তির কথা। কিন্তু হায়! আমি যে ঢাকায় থাকি। তাই বলে কি হাল ছেড়ে দেব? না! হার মানা হারের প্রতি আগ্রহ আমার নাই। প্রতিদিন সন্ধ্যায় বন্ধুরা তাই বেড়িয়ে পড়তাম বিশালতায় সন্ধানে। কোথায় আর যাব, রাস্তায় হাটা হাটি। প্রতিদিন যেতাম নতুন নতুন পথে, চিনতাম নতুন নতুন রেস্তোরা, নতুন নতুন খাবার। চার দেওয়ালে ঘেরা রুমের চাইতে একদিকে প্রসস্ত রাস্তাই বা কম কিসে!!

এভাবে হাটতে হাটতে একরাতে নতুন এক পথ ধরলাম। কিছুদূর গিয়ে অন্যরকম এক জগতের সন্ধান মিলল। নদীর তীর ঘেষে লম্বা প্রশস্ত রাস্তা, পাশে বড়বড় গাছের কাঠের গুড়ি, তাকে তাকে সাজানো। তারই সামনে একটা অন্য রকম ব্রীজ। ব্রীজটা অন্যরকম এই অর্থে যে এটা নদীর এপার ওপারে না মিলিয়ে নিজেও তীর ঘেষে চলে গেছে। আমাদের ঢাকায় এরকম সময় কাঁটাবার জায়গা আছে জানা ছিল না। রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলাম, নির্জন অন্ধকার!! মাঝে মাঝে দু একটি গাড়ি দেখা যায়। একপাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ঢাকার বুড়িগঙ্গা, অন্য পাশে পুরোনো দিনের ঢাকার আমেজ। আজ হতে চারশ বছর আগে নদী পথে ইসলাম খান যখন ঢাকাতে আসেন ঢাকার এই এলাকাই তার চোখে প্রথম বাঁধে। তিনি সিদ্ধান্ত নেনে এখানেই মোঘল বাংলার রাজধানী স্থাপনের।

নদী, নিস্তব্ধতা, নির্মল বাতাস এই তিনের সংমিশ্রন এই শহরে পাওয়া আর আলাদিনের চেরাগ পাওয়া একই মনে হল। সব সুন্দরের সাথে আল্লাহ কিছু না কিছু অসুন্দর মিলিয়েই দেন। এখানে আছে ময়লা পানির একধরনের গন্ধ। তবে তা এতটা প্রকট না যে আমাদের দূরে সরিয়ে দেবে। সেই থেকে প্রতি সন্ধ্যায় পৌছে যাই সেখানে। ইদানিং খুব বাতাস বয়, নদীর পানিও বেড়েছে। ভাল লাগে। রাতে যাই, তাই ছবি তুলতে পারি না। পূর্ণিমার রাতে জায়গাটা অন্যরকম হয়ে যায়। নিজেকে আর ঢাকাবাসী মনে হয় না। কাঠ ব্যবসায়ীদের ফেলে রাখা বিশাল বিশাল কাঠের গুড়ির উপর নদীর এক তীরে বসা আমরা অন্য দিকে জাহাজ বানাবার ডকইয়ার্ড। ওপারের একটা ঘাটের নাম “সাগর”। এপারে বসে ওপার হতে মাঝে মাঝে আসা অক্সি এসিটিলিন শিখার আভাস পাওয়া যায়। ডান দিকে তাকালে দেখি বুড়িগঙ্গার উপরের আলুবাজার ব্রীজ বেয়ে চলে যাচ্ছে কতগুলো গাড়ি। বামে তাকালে দেখি বুড়িগঙ্গার পোস্তাগোলা ব্রীজের লাইটপোস্টগুলো। একই সাথে বুড়িগঙ্গার উপরের দুটি ব্রীজ আর একটি ব্রীজের উপর দিয়ে দেখা।

সেখানে আর একটি বিশেষ নজরকাড়া ব্যাপার আছে, সেটা হল র‌্যাব ১০ এর হেডকোয়াটার। অন্য র্যা ব অফিসগুলোর চাইতে এই হেডকোয়াটারটা আলাদা। যে জানে না তার চোখে কখনই র‌্যাবের অফিসটা আটকাবে না। সাধারন একটা বাড়ি, ফটক সবসময় বন্ধ। সামনে নেই কোন গাড়ি বা কালো র‌্যাব পাহাড়ারত। শুধু একটা সাইনবোর্ডে লেখা “র‌্যাব ১০”, নিচে একটা সিসিটিভির ক্যামেরা।

প্রথম দিকে হেটে হেটে জায়গাটার সন্ধান পেয়েছিলাম। যেদিন হাটতে ইচ্ছে করত না আমরা রিক্সা নিতাম। প্রতিদিনই রিক্সাওয়ালার সাথে ঝামেলা বাধত, কারন আমরা ঠিক করে বলতে পারতাম না কোথায় যাব। রিক্সাওয়ালার ভাব বুঝে আন্দাজের উপর ভাড়া ঠিক করতাম। কখনও ঠকতাম আমরা, কখনও বা রিক্সাওয়ালা। একদিন আমরাও চিনে গেলাম। টিকাটুলির বলধা গার্ডেনের মোড় থেকে ফরাশগঞ্জ কাঠপট্টি যাব, বললেই ১৫/২০ টাকায় পৌছে যাওয়া।

মাঝে মাঝে আমি একাকী ঘুরতে বের হই, একেবারে নিসঙ্গ। অনেকের মাঝে একা একা ঘুরতে ভাল লাগে। সেরকমই এক বিকেলে গিয়েছিলাম সেখানে, কিছু তোলা ছবি দিলাম। জায়গাটাতে স্থানীয় ছেলেপুলেরা ছাড়া অন্যরা যায় বলে মনে হত না। ইয়ুটিউবে মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর ‘থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার’ নাম্বার মুভিতে জায়গাটার একটা দৃশ্য আছে। আমাদের রাজধানীর ভারী জীবনকে একটু হালকা করার অনেক উপকরণ এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমরা চাইলে সেগুলোকে গুছিয়ে নিতে পারি, গড়তে পারি আমাদের এক অন্যরকম ঢাকা।

অন্যরকম ঢাকা